ভোটের মাঠে একাই লড়াই কংগ্রেসের, বাংলায় প্রচারে আসছেন রাহুল-প্রিয়াংকা
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনে জোট ছেড়ে একাই লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। সেই সিদ্ধান্তের পর এবার রাজ্যের মাটিতে সরাসরি প্রচারে নামতে চলেছেন দলের শীর্ষ নেতারা। বর্ষবরণের আগেই মুর্শিদাবাদ ও মালদহকে কেন্দ্র করে জনসভা করতে আসছেন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াংকা গান্ধী।
প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৪ এপ্রিল মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জে একটি বড় জনসভা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ওই সভায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রাহুল গান্ধীর। এই সভাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলা নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। জানা গেছে, প্রথমে সুতি, ফরাক্কা ও ইসলামপুর মিলিয়ে একটি বড় জনসভার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেখানে রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু সময়সূচি নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সামশেরগঞ্জকেই চূড়ান্ত করার দিকে এগিয়েছে দল। এখন ওই কেন্দ্রিক করেই সব প্রস্তুতি এগোচ্ছে।
শুধু রাহুল গান্ধী নন, তার পরেই বাংলার প্রচারে আসতে পারেন প্রিয়াংকা গান্ধীও। সূত্রের খবর, ১৮ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিলের মধ্যে তার সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও পুরুলিয়া এই তিন জেলাকে কেন্দ্র করে তার জনসভা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই জেলাগুলিতে দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী লড়ছেন, ফলে প্রচারের জোর বাড়াতে এই এলাকাগুলিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যে এবার কংগ্রেস একাই ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। জোট থেকে বেরিয়ে এসে এই একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্তকে দলীয় নেতৃত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। এই পরিস্থিতিতে শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতি দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা আনবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনৈতিক গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। এই জেলার একাধিক কেন্দ্রে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। অধীর চৌধুরী, শুভঙ্কর সরকার, নেপাল মাহাতোর মতো নেতারা এখানে প্রার্থী হয়েছেন। তাদের সমর্থনে রাহুল ও প্রিয়াংকার সভা দলীয় সমীকরণে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্যের নেতাদের সমন্বয়ও জোরদার হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) মুর্শিদাবাদের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। ওই বৈঠকে অধীর চৌধুরী, শুভঙ্কর সরকার ও গুলাম আহমেদ মীর উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে প্রচারের সময়সূচি ও কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
শুধু গান্ধী পরিবারই নয়, আরও একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাকে বাংলায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্রের খবর, আজহারউদ্দিন, শচীন পাইলট, ইমরান প্রতাপগড়ির মতো নেতারাও প্রচারে অংশ নিতে পারেন। এতে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি নিজে রাহুল গান্ধীকে তার কেন্দ্রে প্রচারের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে শ্রীরামপুরেও একটি বড় জনসভার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রাজ্যের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেসের এই প্রচার কৌশল স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে দলটি এবার একক শক্তিতেই লড়াইকে গুরুত্ব দিচ্ছে। জোট রাজনীতির বাইরে এসে নিজেদের সংগঠনকে মজবুত করার চেষ্টা করছে তারা। বর্ষবরণের আগে এই প্রচারসূচি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই সময়টিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আবহ থাকে। সেই আবহকে কাজে লাগিয়ে জনসংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে কংগ্রেস। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায় এই প্রচার কৌশল কার্যকর হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জোট ছেড়ে একা লড়াইয়ের সিদ্ধান্তের পর এবার মাঠে নেমে পড়ছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাহুল ও প্রিয়াংকার এই সফর রাজ্যের নির্বাচনি লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

